দেশের পর্যটন খাত থেকে ২০৪০ সাল নাগাদ সরকার ৮০ হাজার কোটি টাকা আয় করতে চায়। এ জন্য হাজারের ওপরে ট্যুরিস্ট স্পট চিহ্নিত করে সেখানকার উন্নয়ন কাজ করা হবে। এটি একটি ভালো পরিকল্পনা। তবে শুধু দেশের স্পটগুলো সমৃদ্ধ করে আয় করা যাবে; কিন্তু দৈদেশিক মুদ্রা আয় হবে না। এটি আমাদের অর্থনীতিতে তেমন ভূমিকা রাখতে পারবে না। টার্গেট করতে হবে, কী করে এই খাত থেকে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা যায়। কেননা, আমাদের স্থানীয় পর্যটকের অভাব নেই। অসংখ্য মানুষ বেড়াতে যান। বরং যে পরিমাণ মানুষ ভ্রমণ করেন, সুযোগ-সুবিধা সেই পরিমাণ নেই। অনেক কষ্ট করতে হয় ভ্রমণকারীদের।

 

আমাদের দেশে পর্যটকের সংখ্যা আগে তেমন ছিল না। কালেভাদ্র কেউ কখনও বেড়াতে যেত। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সেই অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। মানুষ বেড়াতে যচ্ছে, তারা বেড়াতে ভালোবাসে। দিন দিন পর্যটকের সংখ্যাও বাড়ছে, সে তুলনায় ট্যুরিস্ট স্পটগুলোতে অবকাঠামো চাহিদা মতো বাড়ানো সম্ভব হয়নি। এ তো গেল দেশি পর্যটকের অবস্থা। বিদেশি পর্যটকের জন্য কিছুই নেই এ দেশে। তাদের কথা ভেবে কিছুই করা হয়নি। আমাদের পাশের দেশগুলো প্রতিযোগিতা করে বিদেশিদের জন্য সুযোগ-সুবিধা বাড়াচ্ছে; অথচ আমরা পিছিয়ে আছি। স্থানীয়দের জন্যই সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো সম্ভব হয়নি, তারা বলে-বিদেশিদের জন্য সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে কি হবে? বিদেশিরা কেন আসবে বেড়াতে? প্রতি বছর যেসব বিদেশি আসেন, তারা কোনো না কোনো কাজ নিয়ে আসেন। বেড়ানোর জন্য কেউ আসেন না। অন্য কাজে এসে কেউ হয়তো কয়েক দিন বেড়িয়ে যান।

বিদেশিদের জন্য আমাদের দেশের বিভিন্ন এলাকা অতি আকর্ষণীয় করে গড়ে তোলা যেতে পারে। এর মধ্যে সেন্টমার্টিনই প্রধান। একমাত্র সেন্টমার্টিন দ্বীপই হতে পারে ৮০ ভাগ বিদেশি পর্যটকের প্রধান আকর্ষণ। অনেক আগে একটা পরিকল্পনার কথা শোনা গিয়েছিল যে, সেন্টমার্টিন দ্বীপটি প্রাকৃতিক অবস্থায় সংরক্ষণ করা হবে, যাতে জৈববৈচিত্র্য কোনোভাবে নষ্ট না হয়, সে জন্য ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু কার্যকর করা হয়নি। হোটেল-মোটেলে ভরে গেছে দ্বীপটি। এমনকি দ্বীপটির রক্ষাকবচ কেয়াবন কেটে সেখানে স্থাপনা তৈরি করা হচ্ছে। বনের সিংহভাগই আজ বিলীন হয়ে গেছে। বিদেশিদের আকর্ষণ বাড়াতে সেন্টমার্টিনকে অবশ্যই প্রাকৃতিক পর‌্যায়ে রেখে বিদেশিদের আগমন নিশ্চিত করতে হবে।

শুধু সেন্টমার্টিন নয়, বাংলাদেশের আরও কিছু এলাকা আছে, যেখানে বিদেশিদের আসতে আগ্রহ সৃষ্টি করতে হবে। বিদেশিদের জন্য অন্য দেশে যেসব সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয়, এখানেও সেগুলো নিশ্চিত করতে হবে। দুবাই, মিশর, তুরস্ক ইত্যাদি মুসলিম দেশেও বিদেশিদের জন্য নানা সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে, যা আমরাও পারি আমাদের দেশে করতে।

আমরা আশা করব, ২০৪০ সাল নাগাদ যে ৮০ হাজার কোটি টাকা আয় করার কথা বলা হয়েছে, তা যেন বৈদেশিক মুদ্রায় আয় হয়। দেশে এ জন্য যা কিছু করা দরকার, করতে হবে। বর্তমান বিশ্বে সব দেশই কিছু না কিছু দৈবেশিক মুদ্রা আয় করে পর্যটন খাত থেকে। কোনো কোনো দেশ তো সিংহভাগই আয় করে এই খাত থেকে। আমাদেরও তো তেমন সুযোগ রয়েছে আয়ের। তবে কেন আমরা পারব না। আশা করি, আমরাও এই খাতে উল্লেখযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে পারব।