Get In Touch
Address: R#6, H#3, Block#D,
Section -12, Mirpur Dhaka
01923 100 400
Sixty Dome Mosque, Bagerhat, Khulna, Bangladesh.
AllTime Open
No Offday
Car, CNG
Bagerhat
খানজাহান আলী মসজিদ (বাগেরহাট, ১৫শ শতক)
ষাট গম্বুজ মসজিদের মতোই পুরনো, সুউচ্চ মিনার ও মেহরাবযুক্ত।
খানজাহান আলী (রঃ) এর মাজার এবং দীঘি
বিস্তারিত
হযরত খানজাহান আলী (রঃ) (জন্ম ১৩৬৯ - মৃত্যু অক্টোবর ২৫, ১৪৫৯) ছিলেন একজন মুসলিম ধর্ম প্রচারক এবং বাংলাদেশের বাগেরহাটের স্থানীয় শাসক। তাঁর অন্যান্য নামের মধ্যে রয়েছে উলুঘ খান, খান-ই-আজম ইত্যাদি।
খান জাহান আলীর তৈরি ষাট গম্বুজ মসজিদ
হযরত উলুঘ খানজাহান আলী (রাঃ) ১৩৬৯ খ্রিস্টব্দে দিল্লীতে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম আকবর খাঁ এবং মাতার নাম আম্বিয়া বিবি। খানজাহান আলীর প্রাথমিক শিক্ষা তার পিতার কাছে শুরু হলেও তিনি তার মাধ্যমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন দিল্লীস্থ বিখ্যাত ওয়ালি এ কামিল পীর শাহ নেয়ামত উল্লাহর কাছে। তিনি কুরআন, হাদীস, সুন্নাহ ও ফিকহ শাস্ত্রের উপর গভীর জ্ঞানার্জন করেন।
খানজাহান আলী ১৩৮৯ খ্রিস্টাব্দে তুঘলক সেনা বাহিনীতে সেনাপতির পদে কর্ম জীবন আরম্ভ করেন। অতি অল্প সময়ের মধ্যেই প্রধান সেনাপতি পদে উন্নীত হন। ১৩৯৪ এ মাত্র ২৬/২৭ বছর বয়সে তিনি জৈনপুর প্রদেশের জাবিতান (গভর্ণর) পদে যোগ দেন। পরবর্তীতে সুলতান খানজাহানের নেতৃত্বে ৬০,০০০ সুশিক্ষিত অগ্রবর্তী সেনাদল সহ আরও দুই লক্ষ সৈন্য নিয়ে বাংলা আক্রমণ করলে রাজা গণেশ দিনাজপুরের ভাতুরিয়াতে আশ্রয় নেন। ১৪১৮ খৃষ্টাব্দে খানজাহান যশোরের বার বাজারে অবস্থান নেন এবং বাংলার দক্ষিণ পশ্চিম অংশে ইসলাম ধর্ম প্রচার ও প্রসার আরম্ভ করেন।
খানজাহানের প্রথম স্ত্রীর নাম সোনা বিবি। কথিত আছে সোনা বিবি ছিলেন খানজাহানের পীর নূর-কুতুবুল আলমের একমাত্র কন্যা। খানজাহানের দ্বিতীয় স্ত্রী রূপা বিবি ওরফে বিবি বেগনী ধর্মান্তরিত মুসলমান ছিলেন। খানজাহান আলী তাঁর দুই স্ত্রীর নাম অনুসারে সোনা মসজিদ এবং বিবি বেগনী মসজিদ নামে মসজিদ নির্মাণ করেন।
হযরত খানজাহান আলী (রাঃ) অক্টোবর ২৫, ১৪৫৯ তারিখে (মাজারশরীফের শিলালিপি অনুযায়ী ৮৬৩ হিজরী ২৬শে জিলহাজ্ব) ষাট গম্বুজ মসজিদের দরবার গৃহে এশার নামাজ রত অবস্থায় ৯০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।
প্রতি বছর চৈত্র মাসের পূর্ণিমার সময় খান জাহান আলীর মাজারে ওরস অনুষ্ঠিত হয় এবং লক্ষাধিক লোক তাতে সমবেত হয়।
রায় ছয়’শ বছর ধরে বংশ পরমপরায় বসবাস করে আসা মিঠা পানির সর্বশেষ উম্মুক্ত আবাসস্থল বাগেরহাটের হযরত খানজাহান আলী মাজার দীঘি। দুইশ একর আয়তনের বিশাল এই দিঘিটি আধ্যাত্মিক সাধক ধর্মপ্রচারক ও সমর নায়ক হযরত খানজাহান আলী খনন করার পর যাতে কেউ দীঘির সুপেয় পানি নষ্ট করতে না পারে সেজন্য দীঘিতে এক জোড়া মিঠা পানির কুমির ছেড়ে দেওয়া হয়। সেই থেকেই বংশ পরমপর খানজাহান আলী দরগাহ দীঘিতে এই মিঠা পানির কুমির বসবাস করে আসছে। বর্তমানে পুরাতন আমলের একটি পুরুষ কুমিরসহ ২০০৫ সালে ২৪ জুন ভারতের মাদ্রাজ থেকে আনা ৪ টি মিঠা পানির কুমিরের ৩ টি এই দীঘিতে রয়েছে। খানজাহান আলী দরগাহ’র কুমিরের রয়েছে দীর্ঘ কিংবদন্তীর ইতিহাস।
দরগায় দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা দর্শনার্থীদের মুরগীই ছিল কুমিরের প্রধান খাবার। বর্তমানে এক শ্রেণীর খাদেমরা কুমিরের এই খাবারের অধিকাংশই বাজারে নিয়ে বিক্রি করার ফলে কুমিরের তীব্র খাদ্যাভাব দেখা দিয়েছে। প্রাকৃতিকভাবে কুমির হিংস্র প্রজাতির প্রাণী হলেও বংশ পরমপরায় এই দরগার কুমির ছিল এর বিপরীত। দর্শনার্থীরা গায়ে হাত বুলিয়ে অনেক সময়ে নিজ হাতে মুখের মধ্যে খাদ্য ঢুকিয়ে দিলেও কুমির কখনও হিংস্রতা দেখায়নি।
কিভাবে যাবেনঃ
কিভাবে যাবেন?
ঢাকা থেকে বাগেরহাট
বাসে:
• ঢাকার গাবতলী, সায়েদাবাদ বা কল্যাণপুর থেকে সরাসরি বাগেরহাটগামী বাস পাওয়া যায়।
• এসি ও নন-এসি বাস সার্ভিস: Shohag, Sakura, Hanif, Green Line, Desh Travels ইত্যাদি।
• সময় লাগে ৬-৭ ঘণ্টা, ভাড়া ৭০০-১২০০ টাকা (বাসের শ্রেণিভেদে)।
ট্রেনে:
• ঢাকা থেকে খুলনা পর্যন্ত ট্রেনে যেতে পারেন (সুন্দরবন, চিত্রা, বেনাপোল এক্সপ্রেস)।
• খুলনা থেকে বাগেরহাট যেতে লোকাল বাস, মাইক্রোবাস বা সিএনজি ব্যবহার করতে পারেন (১-১.৫ ঘণ্টা)।
ফ্লাইটে:
• ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে খুলনা (যশোর বিমানবন্দর) পর্যন্ত ফ্লাইট রয়েছে।
• যশোর থেকে খুলনা পৌঁছে সেখান থেকে বাগেরহাট যেতে পারবেন।
মসজিদে পৌঁছানোর উপায়
• বাগেরহাট শহর থেকে অটো, রিকশা বা মাহিন্দ্রা/লেগুনা ভাড়া করে ১৫-২০ মিনিটে ষাট গম্বুজ মসজিদে পৌঁছানো যায়।
• জনপ্রতি রিকশা ভাড়া ২০-৫০ টাকা, অটো/লেগুনা ভাড়া ৩০-১০০ টাকা।
ভ্রমণের সেরা সময়
শীতকাল (নভেম্বর-ফেব্রুয়ারি) ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে ভালো সময়।
গরমকালে যেতে চাইলে সকালে বা বিকেলে গেলে আরামদায়ক হবে।
ঈদের ছুটি বা বিশেষ দিনে ভিড় বেশি হয়, তাই সে অনুযায়ী পরিকল্পনা করুন।
প্রবেশ মূল্য ও সময়সূচি
• প্রবেশ ফি:
o বাংলাদেশি নাগরিক: ৩০ টাকা
o বিদেশি পর্যটক: ২০০ টাকা
o শিক্ষার্থী ও শিশুরা ছাড় পেতে পারে।
• সময়সূচি:
o প্রতিদিন সকাল ৯টা – সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকে।
থাকার ব্যবস্থা
বাগেরহাটে থাকার জন্য কিছু ভালো হোটেল:
• Hotel Momtaz
• Hotel Khan Palace
• Hotel Al Amin
• Govt. Parjatan Motel (সেরা অপশন, সরকারি ব্যবস্থাপনা)
খুলনায় থাকতে চাইলে:
• Hotel Castle Salam
• Tiger Garden International Hotel
• City Inn Hotel
খাবারের সুপারিশ
বাগেরহাটের চুইঝাল গরুর মাংস ও স্থানীয় মাছের রান্না ট্রাই করা যায়।
বাজারের বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে ভাত-মাছ, খাসির মাংস, পরোটা-ভাজি পাওয়া যায়।
কেনাকাটা ও দর্শনীয় স্থান
খান জাহান আলী মাজার – ঐতিহাসিক স্থাপনা ও পুকুরে কুমির দর্শন।
সিঙ্গাইর মসজিদ – আরেকটি প্রাচীন মসজিদ, যা ষাট গম্বুজ মসজিদের কাছেই অবস্থিত।
সুন্দরবন ট্যুর – বাগেরহাট থেকে সুন্দরবনের করমজল এলাকায় একদিনের ট্যুর করা যায়।
গুরুত্বপূর্ণ টিপস
সঠিকভাবে পোশাক পরিধান করুন, কারণ এটি একটি ধর্মীয় স্থান।
গরমের সময় ক্যাপ, সানগ্লাস ও পানি সঙ্গে রাখুন।
পর্যাপ্ত সময় নিয়ে ঘুরুন, যাতে ইতিহাস ও স্থাপত্যের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন।
Information Source: https://sadar.bagerhat.gov.bd/bn